চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক শিক্ষা সফরে গিয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। তার নাম পূজা রানী দাস। শিক্ষা সফর শেষে সহপাঠী ও শিক্ষকরা ফিরে আসলেও পূজার খোঁজ না পাওয়ায় তার পরিবারে চলছে কান্নার রোল। পূজার বাবা অপু দাস মেয়েকে ফিরে পেতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে বারবার ধরণা দিলেও এ বিষয়ে কেউ কোন জবাব দিচ্ছে না।
এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত রোববার (১ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে মিরসরাইয়ের আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩টি বাসে করে ১৫০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ১৭৫ জন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফেরার উদ্দেশ্যে সবাইকে বাসে ওঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে সময় ৩টি বাসে কয়েকজন অনুপস্থিত থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের খুঁজে আনেন। কিন্তু দশম শ্রেণির ছাত্রী পূজা রানী দাসকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষকরা জানান, তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানানোর পর কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে জিডি করেই দায়িত্ব শেষ করে শিক্ষকরা বাকি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিরসরাই ফিরে আসেন।
আর শিক্ষকদের নিরব ভূমিকার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পূজার বাবা অপু দাস। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল থেকে পিকনিকের কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে গেল। এতগুলো ছেলেমেয়ে এত দূরের পথে গেল, অথচ প্রধান শিক্ষক গেলেন না। তিনি এখন পর্যন্ত আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগও করেননি। যাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই সহকারী শিক্ষক রতন বাবুও নাকি ফেরার পথে গাড়ি থেকে নেমে যান। একজন শিক্ষক আমাকে ফোন করে বলেন পূজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বললাম, আপনারা দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন, এখন আপনারাই আমার মেয়েকে ফেরত দেবেন। দায় নিতে না পারলে কেন আমার মেয়েকে পিকনিকে নিলেন?'
এ বিষয়ে শিক্ষা সফরের দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু রতনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারকে ফোন করা হলে তিনি ‘ঝামেলায় আছেন’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি শুনলাম, আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’
এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত বড় শিক্ষা সফরে নিরাপত্তা ও তদারকির এমন অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যথাযথ দেখভাল করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার দায় তারা এড়াতে পারেন না।
ডিবিসি/এনএসএফ