বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

কক্সবাজারে শ্মশানভূমি দখল করে লবণ ও মাছচাষ: মৃতদেহ সৎকারে বিপাকে রাখাইন সম্প্রদায়

কক্সবাজার প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে রাখাইন সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন শ্মশানভূমি দখল করে লবণ ও মাছচাষ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে থাকা এই শ্মশানভূমির লবণ মাঠের নিচেই শায়িত আছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের হাজারো পূর্বপুরুষ। এতে শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মৃতদেহ সৎকার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে স্থানীয় রাখাইন জনগোষ্ঠী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানানোর পর শ্মশানভূমির উন্নয়ন ও সংস্কারে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হলে দখলদাররা দফায় দফায় বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

 

জানা যায়, কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে সাগর উপকূলের চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যম রাখাইন পাড়ায় প্রায় ৮০০ পরিবারের বসবাস। উত্তর রাখাইন পাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের পাশেই রয়েছে শতাধিক বছরের প্রাচীন দুটি শ্মশান। ২০০১ সালে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার একর জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে শ্মশানের জন্য বরাদ্দ দিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়কে দখল বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। 

 

পরে সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেখানে সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে স্থানীয় মৃত কবির আহমদের ছেলে ফজলুল করিম মিন্টু, লাল মিয়া লালু, এয়ার খান ও একরামুল হক শ্মশানভূমির অধিকাংশ জায়গা জবরদখল করে লবণ ও বর্ষা মৌসুমে মাছচাষ করছেন। শ্মশানভূমি সংকুচিত হওয়ায় বর্তমানে বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধ সড়কের ওপর মৃত স্বজনদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াসহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

 

এদিকে শ্মশানভূমি দখল ও সংস্কারকাজে বাধা প্রদানের খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, এটি শুধু একটি জমির বিষয় নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। শ্মশানভূমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, দখলদারির বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, শ্মশানভূমি দখল নিয়ে রাখাইনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আদি বাসিন্দা হিসেবে কক্সবাজারে রাখাইনদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাদের ব্যবহৃত দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন এই শ্মশানভূমিও সেই ঐতিহ্যের অংশ। অবিলম্বে এই শ্মশানভূমি দখলমুক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন