নানা অনিয়মের অভিযোগ

কক্সবাজারে ৩টি পেট্রোল পাম্পকে সোয়া ২ লাখ টাকা জরিমানা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কক্সবাজারের উখিয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা জ্বালানি তেলের অনিয়ম, মিটারে কারচুপি ও অবৈধ মজুতের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে টানা অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের দায়ে চারটি মামলায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোক্তা অধিকার ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেওয়া এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর মালিকানাধীন কুতুপালংয়ের মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে মিটারে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ঠকানোর অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। 

 

অন্যদিকে, পালংখালী এলাকার মেসার্স ইউসুফ অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুদ করার প্রমাণ মেলে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের এই অপচেষ্টার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

তবে সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে হলদিয়া পালংয়ের মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে, যার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী। এ পাম্পটিতে একই সঙ্গে মিটারে কারচুপি ও গোপনে তেল মজুদের প্রমাণ পাওয়ায় দুটি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব পাম্পে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম চললেও এর আগে কোনো কার্যকর নজরদারি ছিল না। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএসটিআই প্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম। এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা জানান, সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ও সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এলাকার সকল পেট্রোল পাম্পকে সতর্ক করা হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ অভিযান একটি সতর্ক সংকেত মাত্র; পুরো জ্বালানি খাতের অনিয়ম চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের কারচুপি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন