আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি উচ্চ থেকে বেড়ে অতি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
শুক্রবার (২২ মে) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডব্লিউএইচও প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস। তিনি আরও জানান, বৃহত্তর আফ্রিকা অঞ্চলেও এই ভাইরাসের ঝুঁকি বেশি, তবে বিশ্বব্যাপী এর ঝুঁকি এখনও কম রয়েছে। বিবিসি শনিবার (২৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বুন্ডিবুগিও নামে পরিচিত ইবোলার এই বিরল প্রজাতিটির কোনো প্রমাণিত টিকা নেই এবং এতে আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মারা যায়। ডিআর কঙ্গোকেন্দ্রিক এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যুর এবং ৭৫০ জনের আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে বলে ডব্লিউএইচওর তথ্যে জানা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি নতুন টিকা তৈরি করছেন, যা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড টিকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে এটি কার্যকর প্রমাণিত হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে প্রাণী ও মানুষের ওপর ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অক্সফোর্ডে ইতোমধ্যেই প্রাণীদের ওপর এই টিকার পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। অক্সফোর্ড মেডিকেল-গ্রেড উপাদান সরবরাহ করতে সক্ষম হলে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এই ইবোলা টিকাটি ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের জন্য আলাদা একটি পরীক্ষামূলক টিকাও তৈরি করা হচ্ছে, তবে সেটি পরীক্ষার উপযোগী হতে আরও ছয় থেকে ৯ মাস সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবিসি/ এইচএপি