কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৯০ জনেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতিমধ্যেই এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (আফ্রিকা সিডিসি) প্রধানের বরাত দিয়ে বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের বুন্দিবুগিও স্ট্রেন দ্বারা ছড়াচ্ছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা এখন পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই। ডিআর কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসে দুজন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (ইউএস সিডিসি)।
ডিআর কঙ্গোতে অবস্থানরত অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন বলে জানা গেছে। একজন মার্কিন নাগরিকের শরীরে ইবোলার লক্ষণ দেখা গেছে। অন্য তিন জন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সিডিসি জানিয়েছে, তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকানদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক নিউজ সাইট স্ট্যাট-এর তথ্যমতে, এই নাগরিকদের জার্মানির একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসের ঝুঁকি কম হলেও আগাম সতর্কতা হিসেবে দেশটির সরকার বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে- গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, ডিআর কঙ্গো বা দক্ষিণ সুদান ভ্রমণ করেছেন-এমন অ-মার্কিন পাসপোর্টধারীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের কঠোর স্ক্রিনিং ও এয়ারলাইন্সগুলোর সহায়তায় কন্টাক্ট ট্রেসিং করা হবে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য ডিআর কঙ্গো ভ্রমণে লেভেল ফোর বা সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি রূপ নেয়নি। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমান রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে এবং এটি আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
আফ্রিকা সিডিসি মহাপরিচালক জিন কাসেয়া বলেছেন, আমরা চাই না মৃতদেহ সৎকারের সামাজিক প্রথার কারণে মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হোক।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে যেখানে ২৮,৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ১১,৩২৫ জন মারা গিয়েছিল। যা মৃতদেহ ধোয়ার ঐতিহ্যবাহী নিয়মের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছিল।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্ত স্ক্রিনিং জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা কঙ্গো সীমান্তে কড়া স্ক্রিনিং শুরু করেছে এবং নাইজেরিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ডিবিসি/এসএফএল