আফ্রিকান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৬৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে আক্রান্ত ২৪৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) এই ভাইরাসের আরও বিস্তারের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই অঞ্চলটিতে বেশ কিছু খনি শহর রয়েছে, যেখানে মানুষের অবিরত যাতায়াতের কারণে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ইবোলা একটি মারাত্মক রোগ যার মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তি বা মৃতদেহের রক্ত, বমি এবং অন্যান্য শারীরিক তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
শুক্রবার আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, কঙ্গোর জাতীয় গবেষণা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথমবারের মতো ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৬ বার এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সাধারণত সেখানে ইবোলার 'জাইর' স্ট্রেইনের প্রকোপ দেখা যায়, যার জন্য কার্যকর টিকা সহজলভ্য রয়েছে।
তবে আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি একটি ভিন্ন বা নতুন স্ট্রেইন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ জেনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফল পাওয়া যাবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থাটি শুক্রবার কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সাথে একটি জরুরি সভার আয়োজন করেছে। আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তাঁরা কঙ্গো সরকার ও জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। আক্রান্ত এলাকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক জনযাতায়াত থাকায় দ্রুত আঞ্চলিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে মূলত মঙ্গওয়ালু এবং রয়াম্পারা স্বাস্থ্য অঞ্চলগুলোতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, সেই সাথে পার্শ্ববর্তী বুনিয়াতেও সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের গ্লোবাল হেলথের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ডা. মাইকেল হেডের মতে, কঙ্গোতে প্রায়ই ইবোলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। প্রাণীজ আধার (বিশেষত বাদুড় বা প্রাইমেট)-এর সাথে মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তর, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু এবং বনাঞ্চলের আধিক্যের মতো বিষয়গুলো এই নিয়মিত প্রাদুর্ভাবের পেছনে কাজ করে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/আরএসএল