আন্তর্জাতিক

কঙ্গোতে ভুমি ধসে নিহত দুই শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কঙ্গোর উত্তর কিভু অঞ্চলে একটি ভয়াবহ ভুমি ধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্রোহী কর্তৃপক্ষ। বুধবার প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে রুবায়া শহরের একটি কোল্টান খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি)  ধসের ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহী গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের কারণে মাটির ভঙ্গুর প্রকৃতির ফলে ভুমি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত মূল্যবান খনিজ কোল্টান উত্তোলনের কাজ চলছিল। ভুমির একজন প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং মাটির নাজুক অবস্থার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। উদ্ধারকাজেও নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য কঙ্গো সরকার ও এম২৩ (M23) বিদ্রোহীরা একে অপরকে দায়ী করছে। কঙ্গো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিদ্রোহীরা নিরাপত্তা মান উপেক্ষা করে অবৈধভাবে খনি পরিচালনার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার গত বছর এই এলাকায় খনি উত্তোলন নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে এলাকাটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

 

অন্যদিকে, কঙ্গো সরকার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে কঙ্গোর খনিজ সম্পদ লুটের অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করেছে। তবে রুয়ান্ডা বরাবরই বিদ্রোহীদের সহায়তা করার বিষয়টি অস্বীকার করে।

 

রুবায়ার এই খনিগুলো বিশ্বের মোট কোল্টান সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন এই খনিজটি উত্তোলনে শ্রমিকরা কোনো আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়াই হাতে খনন কাজ চালায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ২০ জন জীবিত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চললেও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় শোকাতুর পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন