গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধসে শিশু ও নারীসহ অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি-কে স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং উদ্ধারকারীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাদেশিক রাজধানী গোমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রুবেয়া কোলটান খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে। উত্তর কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে মাটি নরম হয়ে এই ভূমিধস ঘটে।
মুয়িসা বলেন, এই ভূমিধসে খনি শ্রমিক, শিশু এবং বাজারের নারীসহ ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ নিযুক্ত উত্তর কিভুর গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা জানিয়েছেন, কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। খনিতে আটকা পড়া এক শ্রমিক ফ্রাঙ্ক বলিঙ্গো জানান, বৃষ্টির পর হঠাৎ ভূমিধসে অনেকে মানুষ চাপা পড়েছেন এবং বেশ কিছু শ্রমিক এখনো খনির সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোলটান ও ভূ-রাজনীতি রুবেয়া খনি থেকে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান উত্তোলিত হয়। এই খনিজটি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং মহাকাশ গবেষণার যন্ত্রপাতিতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সাল থেকে খনিটি রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্রোহীরা তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ জোগাতে এই খনির সম্পদ ব্যবহার করছে। যদিও রুয়ান্ডা সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই খনির অনিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। কঙ্গো খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনিক ২.১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করেন। রুবেয়া খনিতেও শ্রমিকরা মাত্র কয়েক ডলারের বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কায়িক শ্রমে নিয়োজিত থাকেন।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসএফএল