আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের পরিস্থিতি ভয়াবহ: আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৯০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩৯ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। একই সাথে, সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সহিংসতা, আন্তর্জাতিক সাহায্য হ্রাস এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়ে চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আক্রান্ত ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোর জন্য এই প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’ হলেও, বৈশ্বিক পর্যায়ে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনও কম। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটিতে ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


কঙ্গোর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী- মোট সন্দেহভাজন আক্রান্ত ৯০৪ জন, সন্দেহভাজন মৃত্যু ১১৯ জন। এর আগে সরকারিভাবে ৭০০ জন আক্রান্ত এবং ১৭০ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ।


গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দুটি শহরের ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতা, সরকারি ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক অনুদান কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।


আরেকটি বড় বিরোধের জায়গা হলো মৃতদেহের দাফন বা শেষকৃত্য। ইবোলা আক্রান্তদের ঐতিহ্যবাহী উপায়ে দাফন করলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে, তাই কর্তৃপক্ষ কড়া নিয়ম মেনে দাফন সম্পন্ন করছে। এর প্রতিবাদে রওয়ামপারা এলাকার এক চিকিৎসাকেন্দ্রে একদল যুবক আগুন ধরিয়ে দেয়, যারা তাদের এক বন্ধুর মৃতদেহ জোরপূর্বক নিয়ে যেতে চেয়েছিল।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ইতুরির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যেকোনো ধরনের জানাজা, শোকসভা এবং ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। বর্তমানে সেনা ও পুলিশের প্রহরায় মৃতদেহ দাফন করা হচ্ছে।


ইবোলা প্রাদুর্ভাব এমন এক অঞ্চলে ছড়িয়েছে যা দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে।


জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরের তথ্যমতে, ইতুরিতে চলমান সহিংসতার কারণে প্রায় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস' জানিয়েছে, সহিংসতার কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়শিবিরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ ধনী দেশগুলোর দেওয়া আন্তর্জাতিক সাহায্য কমিয়ে দেওয়ার ফলে কঙ্গোর মহামারি শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।


বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই), ফেস শিল্ড, টেস্টিং কিট এবং লাশ বহনের বিশেষ ব্যাগের তীব্র সংকটে ভুগছেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালের প্রধান জুলিয়েন লুসেঙ্গে বলেন, আমরা বিভিন্ন সংস্থার কাছে সাহায্য চেয়েও এখনও কিছু পাইনি। আমাদের নার্সদের জন্য শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর কয়েকটি মাস্ক রয়েছে।


সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও নামক ইবোলা ভাইরাসটি। এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন