গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রুবায়া কোল্টান খনিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট এক ভয়াবহ ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির খনি মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনই শিশু বলে জানা গেছে। আহত অনেককে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী গোমা শহরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে খনিটির নিয়ন্ত্রণকারী এএফসি/এম২৩ (AFC/M23) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের দেওয়া নিহতের এই বিশাল সংখ্যার বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এম২৩-এর কোনো মুখপাত্রকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের মোট কোল্টান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশই আসে এই রুবায়া খনি থেকে। কোল্টান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যানটালাম নামক একটি তাপ-প্রতিরোধী ধাতু তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশ গবেষণার যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইন তৈরিতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। ২০২৪ সাল থেকে খনিটি এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সম্প্রতি কঙ্গো সরকার খনিজ সহযোগিতা চুক্তির আওতায় যে কয়টি খনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব করেছে, তার সংক্ষিপ্ত তালিকায় রুবায়ার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এম২৩-এর অপর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গত কয়েক দিনের টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই মূলত এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খনি শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ না করা পর্যন্ত ওই নির্দিষ্ট স্থানে খননকাজ পরিচালনা করতে আগেই নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির শেষের দিকে ঠিক একই স্থানে ঘটা অন্য আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর মাত্র এক মাসের মাথায় পুনরায় এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা ওই এলাকার খনিগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি