জাতীয়

কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার

ডেস্ক রিপোর্ট

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ২২শে এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০২:২৮ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে রসালো শিরোনামে প্রচার এবং হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির প্রতিরোধে সরকার কী ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়েছে।

 

জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৫(১) ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে কোনো ভিডিও প্রচার বা হুমকি প্রদান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধারা ২৫(২) অনুযায়ী এই অপরাধের দণ্ড অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। তবে ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে দণ্ড বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী তা ‘সাইবার স্পেসে প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য হবে, যার শাস্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

 

ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক যেকোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন। এ বিষয়ে বিটিআরসি-কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা যাবে। এছাড়া জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

 

ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে রিয়েল-টাইমে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করতে ‘সোয়ার (SOAR)’ এবং ‘ই-ডি-আর (EDR)’ এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেই সঙ্গে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিওর উৎস দ্রুত শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। বিদেশে অবস্থান করে কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন-২০১২’ প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন