বাংলাদেশ, অর্থনীতি

করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা, রিটার্ন দেওয়া যাবে বছরজুড়ে

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট। আগামী অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ (৩ লাখ ৭৫ হাজার) টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে এই সুবিধা পরবর্তী ২০২৭–২৮ অর্থবছরেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় এই ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, গত বছরের বাজেটে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর যে ধারা শুরু করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তা বজায় রাখল।


উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ শ্রেণিতে করমুক্ত আয়ের বাড়তি সুবিধাপ্রতিবারের মতো এবারও নারী, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমায় বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়েছে। নারী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা: ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের ও প্রতিবন্ধী করদাতা: ৫ লাখ টাকা। গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা: ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক: মূল সীমার চেয়ে সন্তানপ্রতি অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা বাড়তি ছাড় পাবেন। 


বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন, যার মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন। বাদ গেল ৫% স্তরনতুন বাজেটে আয়করের কর হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় পরিবর্তন হিসেবে, করমুক্ত সীমার পরবর্তী প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর যে ৫ শতাংশ কর হার ছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে করদাতার ওপর করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। নতুন প্রস্তাবিত কর হার:
করযোগ্য আয়ের স্তরকরের হার প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা (০%-করমুক্ত) পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা (১০%) পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা (১৫%) পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা (২০%) পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা (২৫%) অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০%। 


আগে দিলে ছাড়, পরে জরিমানা এখন থেকে করদাতারা বছরজুড়ে যেকোনো সময় আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে বছরের শুরুতে রিটার্ন দিলে মিলবে বিশেষ ছাড়, আর দেরিতে দিলে গুনতে হবে বাড়তি টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বর (প্রথম প্রান্তিক): নির্ধারিত করের ৫ শতাংশ বা ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম), সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর-ডিসেম্বর (দ্বিতীয় প্রান্তিক): স্বাভাবিক নিয়মে নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে, কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা থাকবে না। জানুয়ারি-মার্চ (তৃতীয় প্রান্তিক): পরিশোধযোগ্য করের সাথে অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন (চতুর্থ প্রান্তিক): পরিশোধযোগ্য করের সাথে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে হবে।


উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাসসর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এরপর বিগত তিন বছর ধরে এই সীমা অপরিবর্তিত ছিল। অথচ এই সময়ে দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসেও মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে এবং প্রকৃত আয় কমেছে। সেই বাস্তবতায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন