জাতীয়

করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাতীয় সংসদে সোমবার পাস হওয়া ২০২৬ সালের অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং টিআইএন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বক্তব্য রাখার সময় করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয়। ফলে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর প্রদান করবেন না।

 

বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা আগের মতোই টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটের দলিল নিবন্ধন, বণ্টননামা এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিতর্কিত বিধানটি কালোটাকা বৈধ হওয়ার সমালোচনার মুখে অর্থ বিল থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

নতুন অর্থবিলে বিভিন্ন খাতে কর ও ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

দেশীয় শিল্পের প্রসারে চিংড়িশিল্প, ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যদিও ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

এছাড়া নতুন বিধানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, মোবাইল আর্থিক সেবার মার্চেন্ট হিসাব এবং যানবাহনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশ থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ব্যাংক ও অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন দাখিলের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির জন্য পৃথক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বা নগদ অর্থ সুবিধা পেলে তাকে মূলধনি প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করে কর আরোপের বিধানও নতুন অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন