কলকাতার অদূরে কেষ্টপুরে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ৪২ বছর বয়সী এক মহিলার। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম সুমিত্রা দাস। নতুন কেনা গাড়ি চালানো অনুশীলন করার সময় ব্রেকের বদলে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলায় গাড়িটি সোজা ১০-১২ ফুট গভীর একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে যায় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
সুমিত্রা দাস তাঁর ব্যবসায়ী স্বামী কৃষ্ণেন্দু এবং একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভিআইপি রোডের ধারে প্রফুল্ল কানন (পশ্চিম) এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তিনি নিজে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, পরিবারটি সম্প্রতি একটি নতুন গাড়ি কিনেছিল। সামনেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা থাকায় সুমিত্রা দেবী নিজেই গাড়ি চালানো অনুশীলন করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মেয়েকে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তিনি গ্যারেজে যান। গ্যারেজটি তাঁদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এবং পাশেই একটি পুকুর রয়েছে। গ্যারেজ থেকে গাড়িটি বের করার পরপরই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আনিশ পাল জানান, চোখের সামনে গাড়িটিকে পুকুরে পড়তে দেখে স্থানীয় কয়েকজন তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় গাড়িটিকে জল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গাড়ির ভেতরের মর্মান্তিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সুজয় দাস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, জল থেকে গাড়িটি তুলে দরজা খোলার পর দেখা যায় নিহত মহিলা গাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর মাথাটি পিছনের সিটের দিকে এবং পা চালকের আসনের দিকে ছিল, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে জলে ডোবার সময় তিনি প্রাণ বাঁচানোর জন্য ভেতর থেকে দরজা খোলার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/ এসভিএন