আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ২ শতাধিক প্রাণহানিতে ৩ দিনের জাতীয় শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দিনরাত অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

সরকার জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের সম্মানে জাতীয় শোক চলাকালে দেশের সব সরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত কলম্বীয় দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

 

গত সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার হিসাবে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে এবং কেন্দ্রের গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। এটিকে গত এক শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প বলা হচ্ছে।

 

ভূমিকম্পে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদোসহ বিভিন্ন শহরে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। মূল কম্পনের পর শতাধিক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

সরকারি হিসাবে আহত মানুষের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। আনুষ্ঠানিক নিখোঁজ তালিকায় কয়েক শ মানুষের নাম থাকলেও বেসামরিক উদ্যোগে তৈরি তথ্যভান্ডারে এই সংখ্যা কয়েক হাজার বলে দাবি করা হচ্ছে। হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকার তথ্য যাচাই করছে।

 

দুর্যোগের তৃতীয় দিনে জীবিতদের সন্ধান আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধসে পড়া স্থাপনার নিচ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানি, বাতাস ও কিছু খাবারের ব্যবস্থা থাকলে এর পরও বেঁচে থাকার নজির রয়েছে।

 

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে উদ্ধারকারী দল ক্রেন, অনুসন্ধানী কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। পেরেইরা ও কালিতে স্বেচ্ছাসেবীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন।

 

কালির কোনো কোনো এলাকা প্রায় সম্পূর্ণভাবে তছনছ হয়ে গেছে। যেখানে আগে বাড়ি ও বহুতল ভবন ছিল, সেখানে এখন কেবল কংক্রিট ও ভাঙা দেয়ালের স্তূপ। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু গাড়িও চাপা পড়ে আছে। বাসিন্দারা কোদাল-বেলচা, এমনকি খালি হাতে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছেন। মাঝেমধ্যে সবাই কাজ থামিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনো শব্দ বা প্রাণের চিহ্ন শোনার চেষ্টা করছেন।

 

তবে বিপর্যয়ের পূর্ণ মাত্রা এখনো জানা যায়নি। বিশেষ করে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি দরিদ্র চোকো অঞ্চলের বহু দুর্গম জনপদ থেকে খুব কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব এলাকার অনেকটিতে কেবল নৌকা, জঙ্গলের পথ অথবা আকাশপথে পৌঁছানো সম্ভব। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের তৎপরতাও সেখানে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানকে জটিল করে তুলেছে।

 

ভূমিকম্পে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থাও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে। কালির হসপিটাল ইউনিভার্সিটারিও দেল ভ্যালের একটি অংশ ধসে পড়ায় রোগীদের পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালের বাইরেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছেন। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।

 

ভূমিকম্পের মাত্র তিন দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য ঘটনাটি প্রথম বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং গৃহহীন পরিবারগুলোকে ভাড়া-সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জরুরি অর্থসহায়তা এবং বিশেষায়িত নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মেক্সিকো অনুসন্ধান ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং এল সালভাদর ত্রাণসামগ্রীবাহী বিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

 

তবে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান করা। প্রতিটি ঘণ্টা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এলেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছাড়ছেন না তাঁরা।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এমএনকে 

আরও পড়ুন