যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী প্রায় দুই বছর কাতার সরকারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল জেট বিমানেই যাতায়াত করতে চান। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিনি এই অত্যাধুনিক বিমানটিই ব্যবহার করবেন।
বুধবার (১ জুলাই) নতুন এই বিমানের উদ্বোধনী ফ্লাইটে ওঠার আগে উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও এমন একটি বিমান তৈরি করতে পারবে না।
'আমেরিকা ২৫০' উদযাপন এবং থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নর্থ ডাকোটা যাওয়ার আগে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই বিমানটি নিয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা জানান। নতুন বিমানে নিজের প্রথম যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম ফ্লাইটটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত।’
কাতারের দেওয়া এই বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটির সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এইমাত্র এটি সম্পন্ন করেছে। তারা এটিকে একজন রাষ্ট্রপতির জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এর সাথে যুক্ত সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন এটি খুবই জটিল, কিন্তু এটি সত্যিই অসাধারণ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর মতো বিমান আগে কখনো তৈরি হয়নি।’
এই বিমানের পেছনে কাতারের বিশাল ব্যয়ের কথা স্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা এই ধরনের একটি বিমান তৈরি করতে পারতাম না, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে আমরা ইচ্ছুক নই। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।’
গত মাসের শেষের দিকে নতুন এই জেটটির উন্মোচন করে তিনি বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান অর্থাৎ বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমানটিকে বিদায় জানিয়েছেন।
বর্তমানে এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভূমিকা পালনের জন্য তিনটি ৭৪৭-৮০০ বিমানকে 'ভিসি-২৫বি' মডেল হিসেবে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। বোয়িংয়ের সংস্কারাধীন মূল দুটি বিমানের কাজ শেষ হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পুরনো বিমান এবং নতুন তৈরি হতে যাওয়া বিমানের শূন্যস্থান পূরণের জন্যই কাতারের দেওয়া এই বিলাসবহুল জেটটি ব্যবহার করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ডিবিসি/এমএনকে