যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন সদস্য। কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজটিকে 'এয়ার ফোর্স ওয়ানে' রূপান্তরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ জুলাই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি সংস্কারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান এল-থ্রি-হ্যারিস একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তারা চাইছে নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই, অর্থাৎ ১৪ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনে এটি হস্তান্তর করতে। বর্তমানে বিমানটির চূড়ান্ত পর্যায়ের রঙের কাজ চলছে।
সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান থেকে একে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত আকাশযানে পরিণত করতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যা যেকোনো আক্রমণ নসাৎ করতে সক্ষম, হ্যাকিং বা আড়িপাতা রোধে বিশেষায়িত এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই পূর্ণাঙ্গ সরকার পরিচালনার সক্ষমতা, প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষ স্যুটসহ আন্তর্জাতিক মানের অভ্যন্তরীণ সজ্জা করা হয়েছে এতে।
কাতারের এই উপহার গ্রহণ করা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে বিতর্কের ঝড়। ডেমোক্র্যাট শিবির ও বিভিন্ন বিশ্লেষক একে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, এর বিনিময়ে কাতার ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব সমালোচনা শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার মতে, এটি দেশের জন্য একটি লাভজনক প্রাপ্তি।
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহরে দুটি বিশেষ বোয়িং ৭৪৭-২০০বি বিমান রয়েছে। নতুন এই বিমানটি যুক্ত হলে প্রেসিডেন্টের বহর আরও শক্তিশালী ও আধুনিক হবে। মার্কিন বিমানবাহিনীর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এখন শুধু অপেক্ষা আগামী গ্রীষ্মের, যখন নীল-সাদা রঙের রাজকীয় আবহে নতুন এই এয়ার ফোর্স ওয়ান ওয়াশিংটনের আকাশে ডানা মেলবে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল