আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে জোড়া গোল করে দলে নিজের গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করেছেন উন্ডাভ। এই জয়ের ফলে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। বদলি হিসেবে নেমে দুটি ম্যাচ খেলে তিনটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টসহ মোট পাঁচটি গোলে অবদান রেখেছেন এই স্ট্রাইকার। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে কোনো বদলি খেলোয়াড়ের জন্য এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড (১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের রজার মিলার রেকর্ডের সমান)।
সব জল্পনা-কল্পনাকে ভুল প্রমাণ করে এগিয়ে যাওয়া এই স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ারের এটি কেবল আরেকটি নতুন অধ্যায়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোলের সুবাদে ২০০২ সালে মিরোস্লাভ ক্লোসার পর প্রথম জার্মান হিসেবে নিজের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন উন্ডাভ। অথচ একসময় তার জন্য বিশ্বকাপে খেলা তো দূরের কথা, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটাই ছিল অনেক দূরের। ১৪ বছর বয়সে ছোট শারীরিক গড়নের কারণে তাকে বাতিল করে দিয়েছিল ওয়ের্ডার ব্রেমেন।
বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম 'সেভেনসুরসেভেন'-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি সে কঠিন সময়ের কথা অকপটে বলেছিলেন উন্ডাভ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওয়ের্ডার ব্রেমেন যখন তাকে বাতিল করে দেয়, ভীষণেই ভেঙে পড়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। তবে, হাল ছাড়েননি তিনি। ১৭ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ স্তরের দল হাভেলসেতে যোগ দেন। সেখানে আধা-পেশাদার ফুটবলার হিসেবে সপ্তাহে ১২০ পাউন্ড আয়ের পাশাপাশি একটি কারখানায় লেজার মেশিন অপারেটর হিসেবে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতেন তিনি। প্রতিদিন ভোর ৪টায় উঠে কারখানায় যাওয়া, তারপর অনুশীলন শেষে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরা, এভাবেই চলছিল তার জীবন। ফুটবল থেকে পাওয়া সামান্য অর্থে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না বলেই তাকে ওই কাজ করতে হতো।
এরপর ২০২০ সালে উন্ডাভ বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগের দল ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোয়িসে যোগ দেন। পরের বছর দলকে শীর্ষ লিগে তুলতে সাহায্য করেন এবং সেখানে ২৫টি গোল করে ব্রাইটনে ডাক পান। তবে ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ২২টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৫টি গোল করার পর তাকে স্টুটগার্টে ধারে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালে স্টুটগার্ট তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেয়। দলে ঠাঁই পেয়েই যেন জাত চেনাতে শুরু করেন উনদাভ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৯টি গোল করে হ্যারি কেইনের পর লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি এবং এর মাধ্যমেই বিশ্বকাপে নিজের জায়গা পাকা করেন।
তবে গত মার্চে ঘানার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করার পর নাগেলসমানের সঙ্গে হওয়া এক প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার জেরে ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া বেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। উন্ডাভ জার্মানির মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। এর জবাবে আরবি লাইপজিগ এবং বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই কোচ সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এমন মন্তব্য করে উন্ডাভ নিজের ওপর অযথাই চাপ বাড়াচ্ছেন। নাগেলসমান সে সময় এমনও বলেছিলেন যে, উন্ডাভ যদি শুরু থেকে খেলতেন তবে গোল পেতেন না। যদিও পরে তিনি এই ফরোয়ার্ডের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন।
এরপর থেকে উন্ডাভ নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি এখন বিশ্বকাপে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার শক্ত দাবিদার। বৃহস্পতিবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে জার্মানির শেষ গ্রুপ ম্যাচে উন্ডাভ শুরু থেকে খেলবেন কি না শনিবারের জয়ের পর এমন প্রশ্নের জবাবে নাগেলসমান বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি আগেই বলেছি, কৌশল নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করতে পারি। কিন্তু আমি কেন ওর ছন্দ নষ্ট করব? সে দুবার বদলি হিসেবে নেমে দুবারই গোল পেয়েছে।'
সূত্রঃ বিবিসি
ডিবিসি/এফএইচআর