জাতীয়

কালেমাখচিত পতাকার অপব্যবহার কাম্য নয়: ধর্মমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পবিত্র কালেমাখচিত পতাকা এবং ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অপচেষ্টা সমাজে যেমন বিভ্রান্তি ছড়ায়, তেমনি জাতীয় ঐক্যও বিনষ্ট করে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘পবিত্র কালেমাখচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় ধর্মমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। সংস্থাটির মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে এতে দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আলেম-ওলামারা অংশ নেন। সভায় কালেমাখচিত পতাকার মর্যাদা রক্ষা, ধর্মীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার বিষয়ে নানা মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

 

বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর বাইরে নতুন কোনো মতবাদ বা বিশ্বাস ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সা.) আদর্শের পরিপন্থী কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ মেনে নেবে না এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। পবিত্র এই পতাকার সম্মান রক্ষার্থে জনসচেতনতা বাড়াতে তিনি আলেম সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

 

সভায় অংশ নেওয়া আলেম-ওলামারা আলোচনায় বলেন, ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ অনেক সময় খাঁটি ধর্মীয় আবেগ থেকে কালেমাখচিত পতাকা বহন করে থাকে। কিন্তু একটি বিশেষ মহল একে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এই পতাকার অনুপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও লক্ষ করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে যুবসমাজকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আলেম সমাজ ঘোষণা দেন, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে কেউ সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করলে তা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

 

সভা শেষে ‘পবিত্র কালেমাখচিত পতাকার সম্মান রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবল, হিজরি নববর্ষসহ কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহারে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্দিষ্ট কালো পতাকা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় নানা মহলে বিভ্রান্তির শঙ্কা রয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো গোষ্ঠী এর সুযোগ নিয়ে মিছিল-সমাবেশে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে, যা দেশ ও মুসলিম সমাজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা তৈরি করে।

 

ঘোষণাপত্রে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কালেমাখচিত পতাকা উত্তোলন মূলত জায়েজ হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের হাতে হাতে এর ব্যাপক ব্যবহারে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া খেলাধুলা বা সাধারণ কর্মসূচিতে গণহারে ব্যবহারের ফলে এসব পতাকা কর্মসূচি শেষে অযত্নে পড়ে থাকা, ছিঁড়ে যাওয়া বা পদদলিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সাধারণ জাতীয় পতাকার যত্রতত্র পড়ে থাকা আর পবিত্র কালেমার অবমাননা এক বিষয় নয়। কালেমাসংবলিত পতাকা ময়লা-আবর্জনায় নিক্ষিপ্ত হলে তা শুধু গুনাহের কারণই হবে না, বরং তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানবে। মূলত এই অবমাননার আশঙ্কার কারণেই অনেক মুসলিম স্কলার পতাকায় কালেমা লিখে এর গণব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করেছেন।
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন