খেলাধুলা, ফুটবল

কাল থেকে বিশ্ব বুঁদ হবে বিশ্বকাপ ফুটবলে!

মো ফয়সাল হাসান

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর, ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের আসরটি নানা দিক থেকেই ঐতিহাসিক। ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফেভারিট কারা এবং কাদের সম্ভাবনা বেশি, তা নিয়ে ইতোমধ্যে ফুটবল মহলে তুমুল জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের আসরেও স্বাভাবিকভাবেই স্পটলাইটের কেন্দ্রে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গত আসরের শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস এবং দলের ভারসাম্য তাদের টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে থাকা ব্রাজিল বরাবরের মতোই অন্যতম ফেভারিট। সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সে কিছুটা ওঠা-নামা থাকলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোদের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

 

ইউরোপিয়ান পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স গত দুটি আসরেই ফাইনাল খেলেছে। তাদের আক্রমণভাগের ক্ষিপ্রতা ও স্কোয়াডের গভীরতা তাদের এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার করে তুলেছে। অন্যদিকে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও ফিল ফোডেনদের নিয়ে গড়া ইংল্যান্ড দলটিকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটাতে ইংলিশরা এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। এছাড়া তারুণ্যনির্ভর স্পেন, ছন্দে ফেরার লড়াইয়ে থাকা জার্মানি এবং অভিজ্ঞতায়পুষ্ট পর্তুগালও শিরোপার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

 

নতুন ফরম্যাটের কারণে এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখার সম্ভাবনা আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবার দ্বিতীয় রাউন্ড বা নকআউট পর্ব শুরু হবে ৩২টি দল নিয়ে। এর ফলে নকআউটের পথ আরও দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফরম্যাটে ছোট দলগুলোর ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়ে ওঠার সুযোগ বেশি। গ্রুপ পর্বে কোনো বড় দল পা হড়কালেই তাদের জন্য নকআউটের সমীকরণ কঠিন হয়ে যাবে। একটি খারাপ দিনই ফেভারিটদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে।

 

তবে সব হিসাব-নিকাশ শেষে, শিরোপার মূল লড়াইটা মূলত লাতিন আমেরিকার ছন্দ আর ইউরোপিয়ান ফুটবলের ট্যাকটিক্যাল মস্তিষ্কের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে প্রবল। বড় দলগুলোর স্নায়ুর চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং স্কোয়াডের ফিটনেসই নির্ধারণ করে দেবে, আগামী এক মাস পর কার হাতে উঠবে ফুটবলের এই পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি। বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন সেই শ্বাসরুদ্ধকর মহারণ দেখার অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন