প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংক্ষিপ্ত এই সফর শেষে তিনি মালয়েশিয় থেকেই চীন সফরে যাবেন। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারত, চীন বা কোনো পরাশক্তি দেশের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়াকে সরকারের একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ভারতের মধ্যকার আঞ্চলিক বৈরিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে প্রথম সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে নির্বাচন করা বাংলাদেশের নিজস্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
এছাড়া মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী সংগঠন ওআইসি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের অন্যতম প্রধান সদস্য হওয়ায়, মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক মুসলিম বিশ্ব ও আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বড় সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মেরিটাইম বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির ৩৭ শতাংশ এবং একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ অনিবন্ধিত কর্মীও সেখানে অবস্থান করছেন।
গত দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে তা নিরসন হবে বলে আশা করছেন জনশক্তি গবেষকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে যদি শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করা যায় এবং একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণের সুযোগ আনা সম্ভব হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনবে।
বাণিজ্যিক দিক থেকেও সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি নোট অব এক্সচেঞ্জ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম বিদেশ সফর দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
ডিবিসি/টিবিএ