বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

কিশোরগঞ্জে রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। একসঙ্গে এত টাকা পাওয়ার ঘটনা মসজিদটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। অতীতে সাধারণত ৪ মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার দীর্ঘ ৬ মাস পর এগুলো খোলা হয়েছে।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়। দানবাক্স থেকে বের করা টাকাগুলো প্রথমে ৪৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয় এবং সেখানে ঢেলে দীর্ঘ সময়ের গণনা কার্যক্রম চলে।

 

টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দিনভর গণনা শেষে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এবার দানবাক্স খুলে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা-রুপা পাওয়া গিয়েছিল।

 

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন আরও জানান, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। দেশ-বিদেশের দাতাদের সুবিধার জন্য মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণ চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। এ পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

 

দানবাক্স খোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদ প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা নিয়মিত নগদ অর্থের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রী দান ও মানত করে থাকেন। ইটনা উপজেলার মোহাম্মদ রাফি এবং হোসেনপুর উপজেলার জাকারিয়া হোসেন জানান, টেলিভিশন ও পত্রিকায় খবর শুনে তারা নিজ চোখে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে এসেছেন। গণনায় অংশ নেওয়া আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আকরাম হোসেন জানান, একসঙ্গে এত টাকা দেখতে এবং গুনতে তাদেরও খুব ভালো লাগে।

 

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে, যাদের যাবতীয় ভরণপোষণ মসজিদ থেকেই বহন করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনা করে থাকে এবং প্রতি বছর ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা এর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন