জেলার সংবাদ

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতার হাত-পা ভাঙার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ১লা এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলার জেরে এক যুবদল নেতার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত বাবুল মিয়া (৪০) লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আহত বাবুলের বাবা হাদিস মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মিয়া কাটাবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের পাশে ‘নিঝুম রেস্তোরাঁ’ পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, শহীদুল ইসলাম শহীদের নির্দেশে বিভিন্ন সময় আব্দুল হাকিম (৩২) নামে এক ব্যক্তি বাবুল মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং জোরপূর্বক টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় বাবুল মিয়া গত ২৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, ওই মামলার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা বাবুল মিয়ার রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রাইস মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা ও লোহার রড দিয়ে তার দুই হাত ও দুই পা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং হাত-পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

আহত বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘শহীদ চেয়ারম্যান কথা বলবে বলে আমাকে ডেকে নিয়ে একটি মোড়ে আটকায়। পরে তার নির্দেশে ও উপস্থিতিতে ২০-২৫ জন মিলে আমাকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। পাসপোর্ট অফিসের সামনে তারা চাঁদাবাজি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। আমি মামলা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই গ্রুপটি আশপাশের দোকানপাট থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করে।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে শহীদুল ইসলাম শহীদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সৈয়দ শাহ আলম বলেন, ‘বাবুলকে ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

 

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই মামলা নথিভুক্ত হবে।’

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন