কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালামকে দীর্ঘ ২৬ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে আসামি আবুল কালামের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত করার পর র্যাব-৩ এর সহযোগিতায় অভিযানে নামে পুলিশ। পাকুন্দিয়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল রাজধানীর শাহজাহানপুরে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে বন্দি করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চরলক্ষীয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের সাথে একই গ্রামের ১৪ বছর বয়সী কিশোর সোহেল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। তর্কের এক পর্যায়ে কালাম ধারালো ছুরি দিয়ে সোহেলের গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই কালাম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ভাই আজিজুল হক জজ মিয়া বাদী হয়ে আবুল কালামকে একমাত্র আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালে আদালত কালামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. আরিফুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের জন্য একটি বিশেষ সাফল্য। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার সকালেই তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডিবিসি/টিবিএ