জেলার সংবাদ

কুমিল্লায় কোটি টাকার সড়কবাতি চুরি, অন্ধকারে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তবর্তী সড়কে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সৌর সড়কবাতি চুরির হিড়িক পড়েছে। বাতি ও ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন কেবল অচল খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে। এতে রাতের বেলায় সড়কটি পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে পড়ায় প্রতিদিন চুরি ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন আদর্শ সদর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ শতাধিক সোলার লাইট স্থাপন করা হয়। পাঁচথুবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর হয়ে পালপাড়া পর্যন্ত এই সড়কে আলোর ব্যবস্থা হওয়ায় রাতের বেলায় নিরাপদে চলাচলের সুযোগ পেয়েছিলেন ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। কিন্তু গত দুই বছরে দুর্বৃত্তরা ধাপে ধাপে প্রায় দুই শতাধিক সোলার লাইট খুলে নিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও লাইটের খুঁটিসহ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে রাত নামলেই প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের বড় একটি অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোলার লাইট চালু থাকাকালে রাতে চলাচল ছিল সহজ ও নিরাপদ। কিন্তু এখন অন্ধকারের সুযোগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এলাকার ছিঁচকে চোর ও মাদক কারবারিরাই মূলত সোলার প্যানেল, ব্যাটারিসহ নানা সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

 

সৌরবাতি চুরির বিষয়ে পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহম্মেদ রাহুল বলেন, ‘এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবীরাই মূলত এসব সোলার লাইট চুরির সঙ্গে জড়িত। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

 

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান জানান, কয়েকটি লাইট চুরি বা নষ্ট হয়েছে শুনেছি। কিন্তু কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারে এবং প্রশাসন কাজ শুরু করবে।

 

জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থে স্থাপন করা হয়েছিল এসব সোলার লাইট। কিন্তু চুরির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত চুরি হওয়া লাইট উদ্ধার ও পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করে সড়কটিকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। তা না হলে জনদুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।

 

ডিবিসি/ এমএনকে

আরও পড়ুন