কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে পদুয়ার বাজার ও বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের ৬ জন গেটম্যান, লালমাই স্টেশনের স্টেশন মাস্টার, দুই ট্রেন চালক (লোকোমাস্টার), সড়ক বিভাগ এবং বাস চালকের দায়িত্বে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী এই প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, অনুসন্ধানে অন্তত ৬টি বিষয়ে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায় চিহ্নিত করেছে কমিটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রতিবেদনে মোট ৮টি সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের দায়ী করা হয়েছে তারা হলেন- পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের ৪ জন গেটম্যান, বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের ২ জন গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার, ট্রেনের ২ জন লোকোমাস্টার (চালক), নির্মাণ কাজে ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সড়ক বিভাগ, বেপরোয়া গতির জন্য ঘাতক বাসটির চালক।
গত ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের সাথে একটি বাসের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন বাস যাত্রী নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ২০ জন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত তিন গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে এডিএম মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে সদস্য হিসেবে ছিলেন- বিআরটিএ-র সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।
ডিবিসি/এসএফএল