কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া একই মামলায় ইসমাইল হোসেন জনি নামের অপর এক আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৬-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলি এই আদেশ দেন।
স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেওয়া চার আসামি হলেন- ইমরান হোসেন হৃদয়, মোহাম্মদ সোহাগ, মোহাম্মদ সুজন ও রাহাতুল রহমান জুয়েল। এর আগে রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এমজেডএম এনতেখাব চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। গত ২৪ এপ্রিল রাতে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে ঝাগুরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামেন বুলেট বৈরাগী। এ সময় দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করা এই চক্রটি যাত্রী সেজে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। নির্জন স্থানে নিয়ে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় তাঁর মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
র্যাব আরও জানায়, অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দা, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডিবিসি/আরএসএল