কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৯ জুলাই ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। এ ছাড়াও ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন রুহুল ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম। রোহিঙ্গা ওই নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়ার জন্য গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ডিবির তদন্ত দল। সালাহউদ্দিন রুহুল দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা নাগরিক সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছার নামে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুলাই স্থানীয় এক বাসিন্দা রেজিস্ট্রার জেনারেলের (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
যার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (বিশেষ নজরদারি উইং) পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়। প্রতিবেদনে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি চাল আত্মসাৎ ও উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়মের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান মাসুদের অনুপস্থিতিতে ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিন রুহুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন রুহুলকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউপি সচিব নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন দিলে, তার স্ত্রী পরিচয়ে একজন জানান, নজরুল ইসলাম অসুস্থ এবং মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘আমরা তিনজনের বিষয়টি জেনেছি। তবে বাকি ৪১ জনের বিষয়ে আমরা অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি, কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ বলেন, ‘প্রথমে তিনটি জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই তিনটি জন্মনিবন্ধন বাতিলের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগেও পত্র পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরও কোনো জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিস্তারিত তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ডিবিসি/এসভিএন