কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন। জিডি পাওয়ার পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছরের এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার একই প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
এরপর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ১১ জুন রাতেই বিয়ে এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান এবং নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করান বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
এদিকে গত শুক্রবার (১২ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেছিলেন যে তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল, তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিসানকে উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জিসানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি মূলত আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে এবং মামলার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিবিসি/টিবিএ