জেলার সংবাদ

কুমিল্লায় বাঁশের খুঁটিতে ভর করে টিকে আছে কংক্রিটের সেতু!

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুমিল্লার দাউদকান্দির গোলাপের চরে গোমতী নদীর শাখা খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো একটি কংক্রিটের সেতু এখন বাঁশের খুঁটিতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এই সেতুটির মাঝের অংশ দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং পিলারগুলো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রেলিংয়ের পলেস্তারা খসে মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেতুটি টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়রাই শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেঁথে দিয়েছেন। বর্তমানে সেতুটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই পাশের সড়ক এসে যেন সেতুর মুখে থেমে গেছে। অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনই আর সেতু পার হতে পারছে না; এমনকি সাইকেল বা মোটরসাইকেল আরোহীরাও বাধ্য হয়ে নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচর পাড় থেকে চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পাকা সড়কের মাঝখানেই এই সেতুটির অবস্থান। সেতুটি শুধু দাউদকান্দির উত্তরের গ্রাম গোলাপের চর নয়, মেঘনা উপজেলায় যাওয়ার সহজ পথও সংযুক্ত করেছে। ফলে এর ভগ্নদশার কারণে দুই উপজেলার সাতটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ ফারহান জানান, প্রতিনিয়ত তারা ভয় নিয়ে সেতু পার হন। সেতুটি ভেঙে গেলে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের আর কোনো উপায় থাকবে না। গোলাপের চরের মানুষের স্থলপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় তারা দ্রুত বিকল্প সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানান। স্থানীয় অটোচালক খালেক ও ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জানান, সেতু দিয়ে পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অসুস্থ মানুষদেরও হেঁটে পার হতে হয়। জোড়াতালি দিয়ে রাখা এই স্থাপনাটি এখন একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন