কুমিল্লার লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাদল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লার লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই পরিবারগুলো সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে গত বুধবার দুই পক্ষকে থানায় ডাকার পর সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
সম্পত্তি নিয়ে গ্রাম্য সালিসের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আদালতে মামলা করায় উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া সমাজ ওই চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সন্ধ্যায়।
এদিকে পরিবার চারটিকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে মাইকিংয়ের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী চার পরিবারের একজন মমিন আলী জানান, তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়ার পর তারা চরম বিপাকে পড়েন। থানার ওসি ও ইউএনও ডাকার পর সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধে যেই চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে তাদের প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। তিনি স্থানীয় গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক। তিনি রাজনৈতিক পদকে ব্যবহার করে তাদেরকে সমাজচ্যুতের পর মাইকিং করিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইছাপুরা গ্রামের প্রয়াত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলী ও একই গ্রামের প্রয়াত আবদুর রশিদের ছেলে আলমগীর হোসেনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হয়েছে। সর্বশেষ ১৯ জুন দুই পক্ষকে জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে চলতি মাসের ২০ আগস্ট আবার সালিসে বসার সিদ্ধান্ত হয়।
এর মধ্যে ২ জুলাই মমিন আলী বাদী হয়ে আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। সালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে মামলা করার অভিযোগ এনে গত সোমবার মাইকিং করে মমিন আলীসহ চার পরিবারের সদস্যদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন