কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর। গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার কাশেম গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ফারিহা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার স্কুল শিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে ফারিহার সাথে মেঘনা উপজেলার মাহেদী হাসান হৃদয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর হৃদয় চীনে পড়াশোনা করতে গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন।
এরপর থেকেই বেকারত্ব ও সাংসারিক খরচ নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হয়। গত সোমবার ফারিহা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাসায় আসার মাত্র একদিন পরই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার পর থেকে ফারিহার স্বামী মাহেদী হাসান হৃদয় পলাতক রয়েছেন। নিহতের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ফারিহার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত হৃদয়। এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তিনি দাবি করেন, ফারিহাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ফারিহা বর্তমানে ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন এবং একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফারিহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফারিহার এমন মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ডিবিসি/টিবিএ