জেলার সংবাদ

কুমিল্লায় ৬ মাসের শিশুকে হারিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৬ মাসের শিশুকে হারিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক মা। অভিযোগ উঠেছে মায়ের অজান্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৬ মাসের শিশুকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

নিজের অবুঝ সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা তাছলিমা আক্তার এখন সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সরেরপাড় এলাকায়। ভুক্তভোগী মা তাছলিমা আক্তার সরেরপাড় গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে এবং মোস্তফাপুর গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী। ৬ মেয়ে ও ২ ছেলের সংসারে বিক্রি হওয়া শিশুটিই তাদের সবার ছোট সন্তান।

 

কান্নায় ভেঙে পড়ে তাছলিমা জানান, গত ১৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফেরার পথে মজিদ কলেজ মাঠে তাঁর কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন কোলের সন্তানটি পাশে নেই।

 

ভুক্তভোগী তাছলিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর খালা চক্রান্ত করে অবুঝ সন্তানকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি কোনো টাকা-পয়সা চান না, কেবল তাঁর কোলের সন্তানকে সুস্থভাবে বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির খালা ছেনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তাছলিমার মামা বাবুল মিয়া সবকিছু জানেন। অপরদিকে মামা বাবুল মিয়া দাবি করেন, তিনি কেবল একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন মাত্র, তবে কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে তা তিনি চেনেন না। উল্টো শিশুটির বাবা আল-আমিনই সবকিছু জানেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শিশুটির বাবা আল-আমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশ বাচ্চাটিকে উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন