আন্তর্জাতিক

কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫ মার্কিনি আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ৩১শে মে ২০২৬ ১২:৩৩:২২ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুয়েতের একটি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মী আহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক ঠিকাদারসহ প্রায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অন্যটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটির ওপর গিয়ে পড়লে এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই এই ঘটনাটি ঘটল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, ইরান কুয়েতের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতির এক চরম লঙ্ঘন।

 

পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই মার্কিন ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কারণ এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি মার্কিন হামলা চালাতে এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল। আইআরজিসি আরও উল্লেখ করে, মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি এলাকায় আকাশপথে হামলা চালায় এবং এর জবাবেই মার্কিন ঘাঁটিতে সতর্কবার্তা হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় প্রথমে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া পক্ষকেই নিতে হবে বলে তারা সতর্ক করে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে আগ্রাসন শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরবর্তীতে যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায়, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের অনমনীয় ও অযৌক্তিক অবস্থানের কারণে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই তা থমকে যায়।

 

সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন