আন্তর্জাতিক, এশিয়া

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিল সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কুর্দি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবিকৃত নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

কুর্দিদের অধিকার নিশ্চিত করে জারি করা এই আদেশের মাধ্যমে দেশটিতে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘকাল ধরে নাগরিকত্ববঞ্চিত সকল কুর্দি সিরিয়ানকে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা। 

 

গত সপ্তাহে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঠিক পরপরই এ ঐতিহাসিক আদেশটি জারি করা হলো। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আলেপ্পোর ওই সহিংসতায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতায় শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, পরবর্তীতে কুর্দি যোদ্ধারা ওই অঞ্চল থেকে সরে গেলে সংঘর্ষের আপাত অবসান ঘটে। 

 

আলেপ্পোর এই সহিংসতা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছিল এবং ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশকে এক নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কুর্দি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, কারণ শারার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসলামপন্থি সরকারের প্রতি কুর্দি বাহিনীগুলোর আস্থাহীনতা ও সন্দেহ দীর্ঘদিনের। 

 

এমতাবস্থায় বিভাজন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জারি করা নতুন আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এখন থেকে দেশটির স্কুলগুলোতে কুর্দি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতিও প্রদান করা হয়েছে। 

 

এ ছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত এক বিতর্কিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে; যার ফলে আগে যারা ‘রাষ্ট্রহীন’ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, তারা এবং তাদের বংশধরসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল বাসিন্দা এখন পূর্ণ নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন। 

আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত সব ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ বা ঘৃণা উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন