কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে ইফাত (৬) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় এক বছর আগে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য মাটি খনন করা হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় সেখানে জমে থাকা পানিতে ডুবে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইফাত ওই এলাকার লুঙ্গী ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে এবং স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
জানা যায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিশু ইফাত তার চাচাতো ভাই সামাদের (১১) সঙ্গে ছাগল চড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ঘণ্টাখানেক পর সামাদ একা বাড়ি ফিরলে স্বজনরা ইফাতকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে নিহতের বাড়ির প্রায় ২০০ মিটার দূরে ব্যাংক কর্মকর্তা মানিক শেখের বাড়ির সামনের নির্মাণাধীন ড্রেনেজের জমে থাকা পানি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেনেজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণের উদ্দেশ্যে খননযন্ত্র (ভেক্যু) দিয়ে সরু খাল সৃষ্টি করে ঠিকাদার। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। ফলে খনন করা অংশটি ছোট খাদে পরিণত হয় এবং পানি জমে সেটি মৃত্যুফাঁদে রূপ নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানা না গেলেও লিটন আলী নামের স্থানীয় এক ঠিকাদার এই কাজ করছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে ঘটনার পর তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই অকালে শিশু ইফাতের প্রাণ ঝরেছে। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/আরএসএল