বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

কুষ্টিয়ার ডিসি-ওসির বদলি নিয়ে মন্তব্য, এমপি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন-এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেই অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবিতে সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রবিউল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মজিদ এই নোটিশ পাঠান।


আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, লিগ্যাল নোটিশটি সরাসরি সংসদ সদস্য বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে ওই বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য ও জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে অথবা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে এক আলোচনা সভায় মুফতি আমির হামজা বিতর্কিত এই বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার ডিসি আসতে কমপক্ষে এখন ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে আসা লাগে। এর আগে ২০ কোটি পর্যন্ত শুনেছিলাম। একটি ডিসি-এসপিকে আসতে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে তারপর এই চেয়ারে বসা লাগে। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, সদর থানার ওসিকে অন্তত ২০ লাখ টাকা উপরওয়ালাকে দিয়ে এখানে আসতে হয়।


পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওই আলোচনায় আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেও নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।


বক্তব্য দেওয়ার ১৬ দিন পর পাঠানো এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার বক্তব্যের অংশটি ভিডিওসহ প্রকাশিত হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন হওয়া জরুরি।


নোটিশের বিষয়ে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, দেশের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিরোধে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি যেহেতু দায়িত্বশীল পদে আছেন, তাই তাকে এই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে।


কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমির হামজা এর আগে মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে বলেছিলেন তিনি ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। কিন্তু কারা অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। আবার ডিসির বদলি নিয়ে কোটি কোটি টাকার অভিযোগ তুললেন। তথ্য গোপন করাও একটি অপরাধ। আমরা চাই তিনি জনসম্মুখে সব নাম প্রকাশ করুন।


এ বিষয়ে জানতে হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমপি সাহেব সেদিন নিজ থেকেই মসজিদে এসেছিলেন। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শুনতে পারিনি।


এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ডিবিসি/ এসএফএল

আরও পড়ুন