ভিজিএফের চাল ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব

কুষ্টিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে রামদা নিয়ে বিএনপি নেতার হামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভিজিএফ চালের কার্ড না পেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) দেশীয় অস্ত্র (রামদা) নিয়ে হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি ও রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের দাবি, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তার দাবি, মূলত: ভিজিএফ’এর চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদের দিতে বলায় এ ঘটনা ঘটেছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরেই ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ভিজিএফের চাল বিতরণের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপির নেতারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিষদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল ও প্রচার সম্পাদক কনিজসহ বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এর আগের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীন কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যান। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬০০টি ভিজিএফ চালের কার্ড পেয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা চান- তারাই সব কার্ড ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন। কিন্তু এখানে যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা এবং এখানে এমপির প্রতিনিধি রয়েছেন, তাই তাদের ১০০টি কার্ড দিতে বলেছিলাম। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা আনিস মন্ডল, কনিজ, যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে পরিষদে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এ সময় রামদা নিয়ে তারা সচিবের দিকেও তেড়ে গিয়ে তাকে মারধর করে।


নুরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।


 ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। এর মধ্যে বিএনপি দাবি করে ৪৫০টি। তাদের ১৫০টি কার্ড নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে দেবেন না। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।


ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনিসুজ্জামান বলেন, ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপির লোকজন ঝামেলা করেছে।


তবে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। গ্রামের একজন যুবককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তিনি ফেরত দিচ্ছেন না। সেই টাকার ব্যাপারে কথা বলতে যাওয়া হয়েছিল। আর ফুটেজে রামদা হাতে তেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আনিস বলেন, অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়ে আমি তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করছিলাম। তাই আমার হাতে রামদা দেখা গেছে।


মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।


এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও-কে ঘটনাটি যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন