বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

কুষ্টিয়ায় সুপারের ছেলের খাতা বাইরে থেকে লিখে এনে ধরা খেলেন ৩ শিক্ষক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দাখিল পরীক্ষায় এক মাদ্রাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র কেন্দ্রর বাইরে থেকে লিখে এনে জমা দেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন তিন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা তাদের আটক করেন। এই ঘটনায় সুপারের ছেলে পরীক্ষার্থী মো. নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার চয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আটককৃত তিন শিক্ষকের এদিন ওই কেন্দ্রে কোনো নির্বাচনি ডিউটি ছিল না।


আটককৃত শিক্ষকবৃন্দ হলেন- মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫), মোছা. মাতোয়ারা খাতুন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন মো. নাসিরুল্লাহ তিনি ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।


র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, বুধবার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহর পরীক্ষার উত্তরপত্র কেন্দ্রের বাইরে থেকে লিখে এনে ভেতরে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই তিন শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রে এ ধরনের অনিয়ম করে আসছিলেন। বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই কায়দায় উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের আটকের পর কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। এ সময় কিছু বহিরাগতও কেন্দ্রর আশেপাশে জড়ো হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।


খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করেন এবং আটক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।


আটক শিক্ষকরা দাবি করেছেন, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই অনৈতিক কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছেন। তারা স্বেচ্ছায় এই কাজ করেননি বলে দাবি করেন। তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হই। তদন্তে জানতে পারি, পূর্বেও এখানে বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো অনিয়ম ঘটেছে। আজকেও র‍্যাবের হাতে বাইরে থেকে খাতা লিখে আনার সময় তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন