কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের মাঠের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে কলেজের আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে আসা সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ফুটবল খেলার মাঠ তৈরির কথা বলে কলেজের বিজ্ঞান ভবনের পাশের বেশ কিছু চারা গাছ কেটে ফেলা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি পক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এমপি আমির হামজা প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে কলেজে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালীন এমপি আমির হামজা তার বক্তব্যে স্লোগান দেওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা একে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কলেজ অধ্যক্ষ মোল্লা মো. রুহুল আমীন এমপিকে দ্রুত নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করার সময় বাইরে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ ওসির উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কক্ষে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি শান্ত হতে সময় নেয়। পরে পুলিশি পাহারায় এমপি আমির হামজা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময়ও তার গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে এমপি আমির হামজা সাংবাদিকদের বলেন, খেলার উদ্বোধন করতে এসে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ষড়যন্ত্র করে তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি উচ্চ মহলে অভিযোগ করবেন বলে জানান। অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হোসেন বলেন, এমপি মহোদয় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির কথা না শুনে উল্টো তাদের ভিডিও করে তালিকা করার হুমকি দিয়েছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করেছে। তবে কলেজ শিবিরের সভাপতি ওয়াস করুনী ফারাবি দাবি করেছেন, একটি পক্ষ আগে থেকেই এমপির আগমন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করছিল এবং উস্কানিমূলক আচরণ করে পরিবেশ নষ্ট করেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মো. রুহুল আমীন বলেন, কলেজের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতেই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নৈশপ্রহরীদের শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, খেলাধুলা বন্ধ করার জন্য আগে থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, গাছ কাটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা পরে স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন