জেলার সংবাদ

কুড়িগ্রামে ৪ বিদ্যালয়ের এসএসসিতে পাস করেনি কেউ!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। সোমবার (১০ আগস্ট) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে চরম হতাশার এই চিত্র উঠে আসে।

এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। কিন্তু এই চার বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দাবি, মাধ্যমিক পর্যায়ে চরম শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার কারণেই এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা এই চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

 

এই চারটির মধ্যে রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৪ সালে মাধ্যমিকের অনুমতি পায় এবং এবার ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়। অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। 

 

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। পাঁচজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও একজনের বিয়ে হয়ে যায় এবং বাকি চারজন পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।

 

একই অবস্থা অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবার অংশ নেওয়া মাত্র চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। 

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

 

 

আরও পড়ুন