জেলার সংবাদ

কুয়াকাটার সাগরে এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘদিনের মন্দার পর পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশের বড় একটি চালান পেয়েছেন জেলেরা। একটি মাছ ধরার ট্রলারে ধরা পড়েছে প্রায় ৪৬ মণ ইলিশ। পরে মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

জেলেদের ভাষ্য, একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসানের চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি সাগরে মাছের উপস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায় এফবি জুনাইদ। আলমগীর মাঝির নেতৃত্বে ট্রলারটির জেলেরা জাল ফেললে এক টানেই উঠে আসে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। এতে প্রায় ২ হাজার ২০০টি মাছ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

 

পরদিন শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফেরে ট্রলারটি। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে পুরো চালানটি বিক্রি করা হয়।

 

আড়ত সংশ্লিষ্টরা জানান, চালানটির মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ছিল ২৪ মণ। এসব মাছের মণপ্রতি দাম পাওয়া যায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ অংশের মাছ বিক্রি করে আসে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাছের দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।

 

এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৯৫ হাজার টাকা দরে। এতে আয় হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। দুই শ্রেণির মাছ মিলিয়ে মোট ৪৬ মণ ইলিশের বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

 

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একইসঙ্গে এত বেশি ইলিশ পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি মাছ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসানের পর তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

 

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, অনেক দিন পর মহিপুরে এত বড় ইলিশের চালান এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও ভালো থাকায় জেলেরা মাছের ভালো মূল্য পেয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে হ্যপাওয়া সাধারণ ঘটনা নয়।

 

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলারেই প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক।

 

তবে একদিনে বড় পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়াকে সাগরে ইলিশের সামগ্রিক প্রাচুর্যের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। বিষয়টি বুঝতে হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের তেমন দেখা মিলছিল না। এখন জেলেদের জালে তুলনামূলকভাবে বেশি ইলিশ উঠছে। বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপকৃত হবেন।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন