দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে গত সপ্তাহে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ মার্কিন সেনা সদস্য ও ৩ জন বেসামরিক ঠিকাদার (কন্ট্রাক্টর) আহত হয়েছেন। রবিবার (৩১ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের (CBS News) বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত ৭ জনের আঘাতই সামান্য এবং চিকিৎসার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা পুনরায় নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিবদে তারা কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস বন্দর নগরীর বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে (০১২০ জিএমটি) আইআরজিসি এই প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। অবশ্য পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি কুয়েতি বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সাথে আকাশেই প্রতিহত (Intercept) করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে তেহরানও অঞ্চলজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল বহর দিয়ে পাল্টা আঘাত হানে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ালেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী সমস্ত জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছেন। একই সাথে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে বলেও তিনি বারবার উল্লেখ করে আসছেন।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/পিআরএএন