কৃষিখাতে নতুন বিপ্লব

গ্রো-আপ প্রকল্পে কৃষকদের মুখে হাসি

ডেস্ক ‍নিউজ

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ১৫ই মার্চ ২০২৫ ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বাংলাদেশের উর্বর মাটি কৃষির জন্য অপার এক সম্ভাবনা। গত কয়েক বছরে, গ্রামীণ কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব ও মধ্যস্থতাকারী মহাজনদের লোভের শিকার হওয়া ও কৃষিপণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়ার সমস্যা ছিল নিত্যকার ঘটনা।

এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে এনজিও ROSA-এর সহযোগিতায় চালু করেছিল গ্রো-আপ (GrowUp) প্রকল্প যা খুলে দিয়েছে নতুন এক দিগন্ত।

 

গ্রো-আপ প্রকল্পে কৃষকদের জন্য উন্নত কৃষি সরঞ্জাম, সঠিক সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করছে নিয়মিত। এসমস্ত সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক কৃষিশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করছে। প্রকল্পটি কৃষকদের সাথে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করে ফসলের সঠিক বাজার মূল্য নিশ্চিত করে, যা কৃষকদের মধ্যস্থতাকারী মহাজনদের শোষণ থেকে রক্ষা করছে।

 

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করলেও, প্রান্তিক কৃষকরা এর প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে দালিলিক প্রমাণপত্র ও উপযুক্ত সহযোগিতার অভাবে। গ্রো-আপ (GrowUp) এই সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে কৃষকদের জন্য সরাসরি, স্বচ্ছ ও দ্বৈততা মুক্ত ঋণ, শস্য, খাদ্য, ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সাথে সেতুবন্ধন রচনা করা হচ্ছে।

 

প্রকল্পটি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী মুরাবাহা ও মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ পরিচালনা করে, যেখানে বিনিয়োগকারী ও কৃষকরা সুদমুক্ত উপার্জনের নিশ্চয়তা পান।

 

এ প্রসঙ্গে গ্রো-আপ (GrowUp) এর একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কৃষকদের সরাসরি সমর্থন প্রদান করে, ফলে তারা মধ্যস্থতাকারীদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করছে।”

 

এছাড়াও, গ্রো-আপ (GrowUp) কর্তৃক এই সহায়তা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।  প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদত্ত সহায়তায় দেশের কৃষি খাত নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে এবং হালাল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকেও আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হচ্ছে।

 

এ নিয়ে কৃষক সাইফুল বলেন, গ্রো-আপ এর সাথে পরিচয়ের পূর্বে আমি ঋণগ্রস্ত ছিলাম। ঋণের চাপে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন চলছি। গ্রো-আপ এর সহযোগিতায় আমি নতুনভাবে চাষ শুরু করি। বর্তমানে, আমি ১০ শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছি এবং ২-৩ বিঘা জমি জুড়ে আলু চাষ করছি। আমি ও আমার পরিবার আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় আছি, আলহামদুলিল্লাহ। গ্রো-আপ পাশে থাকলে আরো অনেক ভালো কিছু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

 

এই ডিজিটাল বিনিয়োগ ও সহায়তা ব্যবস্থা কৃষি খাতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক স্বাধীনতা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে গ্রো-আপ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

 

ডিবিসি/ এইচএপি 

আরও পড়ুন