কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা গোপন তেলবাহী জাহাজের বহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্কের উপকূলের কাছে গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ‘কায়রোস’ এবং ‘বিরাট’ নামের দুটি তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। শুক্রবার জাহাজ দুটিতে প্রথম আঘাত হানা হয় এবং শনিবার ‘বিরাট’ ট্যাঙ্কারটিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইউক্রেনের তৈরি ‘সি বেবি’ নামের নৌ-ড্রোনগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে জাহাজগুলোতে আঘাত করে, যার ফলে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠতে দেখা যায়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোকে সহায়তা করেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই আক্রমণকে যুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বা এস্কেলেশন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার তেলের আয়ের উৎস ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই কৌশল নিয়েছে, কারণ এই অর্থই মস্কোর যুদ্ধের রসদ জোগাতে প্রধান ভূমিকা রাখে। আক্রান্ত জাহাজগুলো রাশিয়ার সেই শত শত পুরোনো ট্যাঙ্কারের অংশ, যেগুলো ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজ দুটিও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত।
ডিবিসি/এমএআর