কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার (৬ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে দেশটির জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং অসংখ্য যানবাহন পানির স্রোতে ভেসে যায়। এমনকি বন্যার কারণে কেনিয়ার প্রধান বিমানবন্দরেও ফ্লাইট ওঠানামা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া ১৭২টি যানবাহন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেনিয়ার জনসেবা মন্ত্রী জিওফ্রে কিরিঙ্গা রুকু জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল নিরলসভাবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো জাতীয় মজুত থেকে দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এ তীব্র বন্যার জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকায় বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন বদলে গেছে। বর্তমানে অল্প সময়ের ব্যবধানে অস্বাভাবিক মাত্রায় তীব্র বৃষ্টিপাত হওয়ায় এই অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি অতীতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি