কেনিয়া থেকে ২,০০০ এর বেশি জীবন্ত 'গার্ডেন এন্ট' বা বাগান পিঁপড়া পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটক এক চীনা নাগরিক ও তার কেনীয় সহযোগীর বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী পাচারের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঝাং কেকুন নামের ওই চীনা নাগরিককে আটক করার সময় তার লাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ পিঁপড়ের চালান উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃত প্রতিটি পিঁপড়াকে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে আলাদা আলাদা টেস্ট টিউব ও টিস্যু পেপারে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নাইরোবির একটি আদালতে শুনানির সময় প্রসিকিউটর জানান, ঝাং এ পিঁপড়াগুলো চার্লস মাওয়াঙ্গি নামের এক কেনীয় ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছিলেন। প্রতি ১০০টি পিঁপড়ার জন্য তিনি ১০,০০০ কেনিয়ান শিলিং (প্রায় ৭৭ ডলার) পরিশোধ করেন। কেনিয়ার বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে বর্তমানে শৌখিন সংগ্রাহকদের কাছে পোষা প্রাণী হিসেবে এ বাগান পিঁপড়াদের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূলত এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই দেশটিতে একটি অবৈধ পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও ঝাং-এর গন্তব্য ছিল চীন, তবে উদ্ধার করা পিঁপড়াগুলো ঠিক কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সে বিষয়ে কর্মকর্তারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বর্তমানে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া, মাওয়াঙ্গির কাছ থেকে পৃথক অভিযানে আরও জীবন্ত পিঁপড়া উদ্ধার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের দ্বিতীয় একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত হয়ে উভয় ব্যক্তিই অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। ঝাং-এর আইনজীবী ডেভিড লুসওয়েটি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, তার মক্কেলরা আইন ভঙ্গ করছেন তা জানতেন না। তারা এটিকে স্রেফ জীবিকা অর্জনের একটি সাধারণ উপায় হিসেবে দেখেছিলেন।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, এ পাচার চক্রের শিকড় সন্ধানে তারা দেশের বিভিন্ন শহরে তদন্ত প্রসারিত করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৭ মার্চ অভিযুক্তদের আবারও আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, কেনিয়ায় পিঁপড়া পাচারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; গত বছরের মে মাসেও হাজার হাজার জীবন্ত রানী পিঁপড়া পাচারের দায়ে চার ব্যক্তিকে কারাদণ্ড অথবা ৭,৭০০ ডলার জরিমানা করেছিল দেশটির একটি আদালত।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এএমটি