কেনিয়ার একটি সরকারি বালিকা আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীবাসে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও বহু সংখ্যক ছাত্রী আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি সূত্র।
কেনিয়ার শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়াস ওগাম্বা আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল কেনিয়ার গিলগিল এলাকায় অবস্থিত উতুমিশি গার্লস স্কুল-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বিদ্যালয়টির ছাত্রীবাসে ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ৮০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীর এই আবাসিক বিদ্যালয়ে গভীর রাতে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রী ওগাম্বা জানিয়েছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্ধারিত অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে মেনে চলেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজধানী নৈরোবি থেকে প্রায় ৭৪ মাইল (১১৯ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টিতে উদ্ধারকাজ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উতুমিশি গার্লস স্কুলের বাইরে শত শত উদ্বিগ্ন ও স্বজনহারা অভিভাবক ভিড় করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তাদের স্কুলের মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
উতুমিশি গার্লস একাডেমি সিনিয়র স্কুলটি মূলত কেনিয়া পুলিশ সার্ভিসের দ্বারা পরিচালিত ও স্পনসরকৃত একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই পুলিশ কর্মকর্তাদের কন্যাসন্তান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওয়াম্বুই ন্দেরিতু নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগুন লাগার পর ছাত্রীবাসের দায়িত্বরত ম্যাট্রন (তত্ত্বাবধায়ক) শিক্ষার্থীদের দ্রুত বের হওয়ার কোনো সতর্কবার্তা না দিয়েই দুটি দরজার মধ্যে মাত্র একটি দরজা খুলে দেন। দ্বিতীয় দরজাটি বন্ধই ছিল। আমার এক কাজিন পায়ে আঘাত পেয়ে কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও, আমরা জানতে পেরেছি অনেক শিশু ভেতরে আটকে পড়ে মারা গেছে এবং বহু আহত হয়েছে।
কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশ সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে প্রায়শই বৈদ্যুতিক গোলযোগ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অগ্নিসংযোগের মতো কারণ জড়িত থাকে।
ডিবিসি/এসএফএল