মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড আবারও অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন। কোনো প্রকার দড়ি, হারনেস বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জামের সহায়তা ছাড়াই তিনি সফলভাবে আরোহণ করেছেন তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের আইকনিক আকাশচুম্বী ভবন ‘তাইপে-১০১’-এর চূড়ায়। শ্বাসরুদ্ধকর এই পুরো অভিযানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স।
১০১ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটির উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট, যা দেখতে অনেকটা বাঁশের কাণ্ডের মতো এবং এটি তাইওয়ানের অন্যতম প্রধান পরিচিতি ও এক সময়ের বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। মূলত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এই অভিযানের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) অ্যালেক্স এই ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণ শুরু করেন।
অ্যালেক্স হনোল্ড মাত্র ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিটের মধ্যে ভবনের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছান। শীর্ষে পৌঁছে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেবল একটি শব্দই উচ্চারণ করেন ‘সিক’ (অবিশ্বাস্য)। এই সময়টি 'তাইপে-১০১' আরোহণের পূর্ববর্তী যেকোনো রেকর্ডের অর্ধেকেরও কম। এর আগে একমাত্র ফরাসি পর্বতারোহী এবং ‘স্পাইডারম্যান’ খ্যাত অ্যালাঁ রোবেয়ার্ট এই ভবনে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে তিনি দড়ি ও হারনেস ব্যবহার করেছিলেন এবং তার সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা।
এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় হনোল্ডের স্ত্রী ভবনের চূড়াতেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, বাতাস এবং প্রচণ্ড গরম তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল, কিন্তু হনোল্ড পুরো সময়জুড়েই ছিলেন অত্যন্ত ধীরস্থির, অটল এবং মনোযোগী।
তাইওয়ানের উপ-রাষ্ট্রপতি সিয়াও বি-খিম এই সাহসিকতাপূর্ণ কীর্তিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, আমি স্বীকার করছি, দৃশ্যটি দেখতে গিয়ে আমিও হয়তো অসুস্থ বোধ করতাম এটা এতটাই কষ্টসাধ্য ছিল।
উল্লেখ্য, অ্যালেক্স হনোল্ড বিশ্বের অন্যতম সাহসী ‘ফ্রি সলো’ ক্লাইম্বার হিসেবে পরিচিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের ৩,০০০ ফুট উঁচু ‘এল ক্যাপিটান’ পাহাড় কোনো দড়ি ছাড়াই আরোহণ করে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন। তার সেই অভিযানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ফ্রি সলো’ অস্কার পুরস্কারও জয় করেছিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এএমটি