কোভিড লকডাউনের সময় সামান্য কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি হেফাজতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক বাবা ও তার ছেলে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সেই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনায় এবার দোষী সাব্যস্ত ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পি জেয়ারাজ (৫৮) ও তার ছেলে বেনিক্স (৩৮) দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যে কারাগারে মারা যান। কোভিড মহামারীর সময় লকডাউন বিধি ভঙ্গ করে মোবাইলের দোকান খোলা রাখার অভিযোগে তাদের আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, ওই দুই ব্যক্তিকে একে অপরের সামনে নগ্ন করে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার’ হিসেবে বর্ণনা করে বিচারক বলেন, “তারা হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এটি করেছে।” বিবিসি লিখেছে, হত্যার দায়ে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তারা তাদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক এও বলেন, “তারা নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা করেছে। তাদের ক্ষমা করা উচিত নয়। তাদের বয়স বা পারিবারিক পটভূমির ভিত্তিতে কম শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তারা সবাই শিক্ষিত।”
বাবা-ছেলের ওই নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় মোট ১০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ২০২০ সালে কোভিডে মারা যান।
সেই ঘটনা তামিলনাড়ুতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল; রাস্তায় নেমেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারাও। বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী এবং ভারতের ক্রিকেট তারকা শিখর ধাওয়ানসহ অনেকেই সোশাল মিডিয়ায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।
বিবিসি লিখেছে, ভারতে পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে আসে সেই ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ভারতে প্রতি বছর কারা ও পুলিশ হেফাজতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নির্যাতন ও নির্যাতনমূলক আচরণ সেখানে ‘পুলিশি ব্যবস্থার অংশ’ হয়ে উঠেছে।
এ বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য বড় ধরনের সংস্কার আনতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।
ডিবিসি/কেএলডি